বাংলা আর্টিকেল লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার সহজ উপায়।

বাংলা আর্টিকেল লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার সহজ উপায়।   

আপনি কি প্রতি মাসে লেখালেখি করে পার্ট-টাইম ইনকাম করতে চান? জানুন বাংলা আর্টিকেল লিখে  মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার সহজ উপায়। কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে আজই লেখা শুরু করুন এবং সহজে পেমেন্ট নিন বিকাশ বা নগদে!  কীভাবে বাংলায় একটি আদর্শ আর্টিকেল লিখে ঘরে বসে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা সহজে আয় করা যায়, তা এই আর্টিকেলে পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছে।
বাংলা-আর্টিকেল-লিখে-আয়-করার-সহজ-উপায়

ডিজিটাল মার্কেটিং জগৎ অনেকাংশেই আর্টিকেল লিখার উপর দাঁড়িয়ে আছে। সঠিকভাবে বাংলায় আর্টিকেল লিখার নিয়ম জানলে আপনিও অনলাইনে আয় করতে পারবেন অনায়াসে। পেশাগতভাবে আর্টিকেল লিখে আয় করতে চাইলে আপনাকে এই আর্টিকেল টি পুরাপুরি পড়তে হবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে বাংলায় আর্টিকেল লিখে সহজে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার নিয়ম।

পোস্ট সূচিপত্রঃ বাংলা আর্টিকেল লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় সহজ উপায় 
  • ভূমিকা
  • আর্টিকেল বা কনটেন্ট কী?
  • আর্টিকেল বা কনটেন্ট-এর বৈশিষ্ট্য।
  • আর্টিকেল বা কনটেন্টের ধরণ।
  • আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে আয় করার সহজ উপায়।
  • আর্টিকেল লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার উপায়।
  • আর্টিকেল কোথায় লিখতে হবে? 
  • আর্টিকেল লিখে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া।
  • আয়ের সঠিক হিসাব। 
  • উপসংহার 

বাংলায় আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট লিখার সহজ উপায় জানার পূর্বে আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট বিষয়টা কি, এর বৈশিষ্ট্য কি, এর ধরণ এবং আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখার নিয়মাবলি গুলো কি কি, কোথায় আর্টিকেল লিখব, আর্টিকেল লিখে কত টাঁকা আয় হবে তার হিসাব এবং আর্টিকেল লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাঁকা আয় করার উপায় কি, তা আমি একটি ব্লগ পোস্টের জন্য একটি আর্টিকেল লিখে উপরি উল্লিখিত বিষয় গুলো তোলে ধরবো। তাই আসুন শুরু করা যাক-

আর্টিকেল বা কনটেন্ট কিঃ

ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রির জগতের মূল চালিকা শক্তি হল একটি আদর্শমানের আর্টিকেল বা কনটেন্ট। আর্টিকেল বা কনটেন্ট এমন একটি বিষয় যা, নির্দিষ্ট কোনো বিষয় বা বিষয়াবলির উপর তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং মতামত প্রকাশ করে, যা তথ্যবহুল ও পাঠকের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে উঠে। আর্টিকেল বা কনটেন্ট মূলত ম্যাগাজিন, অনলাইন নিউজপোর্টাল, পত্রিকা এবং ব্লগ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

আর্টিকেল বলতে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে, গবেষণালব্ধ সেই বিষয়কে বুঝি যা বিস্তারিত তথ্য দ্বারা সজ্জিত এবং লিখিত ও টেক্সট-ভিত্তিক কন্টেন্ট। সার্চ ইঞ্জিন ঐ সকল ওয়েবসাইটই বেশি পছন্দ করে, যে গুলো অধিক তথ্যবহুল এবং ট্র্যাফিকদের কাছে অধিক জনপ্রিয়। অর্থাৎ আপনি যদি একটি ভালো মানের কনটেন্ট লেখেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি বেশি দৃশ্যমান হবে এবং ট্র্যাফিক বেশি পরিমাণে আপনার ওয়েবসাইটে আসবে। 

আর্টিকেল বা কনটেন্ট-এর বৈশিষ্ট্যঃ

একটি আদর্শ মানের আর্টিকেল বা কনটেন্টের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য গুলো থাকা অতীব গুরুত্বপূর্ণঃ
  • আর্টিকেল অবশ্যই বিষয়ভিত্তক ও স্পষ্ট হতে হবে;
  • আর্টিকেলের ভাষা সহজ, সরল ও সাবলীল হতে হবে;
  • তথ্যবহুল ও পাঠকের কাছে শিক্ষণীয় হতে হবে;
  • এস ই ও এবং পাঠক ফ্রেন্ডলি হতে হবে;
  • সুনির্দিষ্ট কাঠামোবদ্ধ এবং বিস্তারিত হতে হবে;
  • সঠিক এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বম্বলিত হবে;
  • সুন্দর এবং আকর্ষণীয় হেডলাইন ব্যবহার ও 
  • সুন্দর ও আকর্ষণীয় ভূমিকা। 

আর্টিকেল বা কনটেন্টের ধরণঃ

অনলাইন ভিত্তিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জগতে ফ্রিল্যান্সিং ভাষায় আর্টিকেল বা কনটেন্ট এর ধরন বা প্রকারভেদ নিম্নরূপঃ
  • অনলাইন বা ডিজিটাল আর্টিকেল বা কনটেন্ট
  • অডিও কনটেন্ট
  • ভিডিও কনটেন্ট
  • টেক্সট কনটেন্ট (আর্টিকেল) এবং
  • ছবি/ইমেজ
  • এনিমিটেড কনটেন্ট 
  • ওয়েব কনটেন্ট 
  • অফলাইন আর্টিকেল বা কনটেন্ট।

আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে আয় করার সহজ উপায়ঃ

ফ্রিলান্সিং কারিয়ারে ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম স্কিল হলো-আর্টিকেল রাইটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং অনেকাংশে আর্টিকেল রাইটিং এর উপর নির্ভরশীল। তবে আর্টিকেল শুধু লিখতে পারলে হবে না খেয়াল রাখতে হবে যে, তা যেন এসইও বান্ধব হয়। কারণ আর্টিকেল বা কনটেন্ট যদি এসইও বান্ধব না হয় তাহলে তা গুগলে র‍্যাংক করবে না। এছাড়া আর্টিকেলের বিষয়টা অবশ্যই তথ্যবহুল ও বিষয়ভিত্তিক হতে হবে যাতে শেষ অবধি পাঠক আকৃষ্ট হয়।

বাংলায় আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার উপায় জানার পূর্বে কীভাবে বাংলায় এসইও বান্ধব আর্টিকেল লিখা যায়, অর্থাৎ আর্টিকেল লিখার সঠিক নিয়ম-কানুন, আর্টিকেল কোথায় লিখতে হবে অর্থাৎ আর্টিকেল লিখার সাইট, আর্টিকেল লিখে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া, আর্টিকেল লিখে অর্জিত আয়ের সঠিক হিসাব ইত্যাদি বিষয়ে জানা অতীব জরুরি। তাই আমি উপরি উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা তুলে ধরলামঃ


১। নিশ নির্বাচনঃ
আপনি আর্টিকেল লিখার আগে আর্টিকেল বা কনটেন্ট-এর সঠিক নিশ নির্বাচন করুন, অর্থাৎ আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখতে চাচ্ছেন তা নির্ধারণ করুন। উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি নিশ হলোঃ 
  • তথ্য ও প্রযুক্তি, 
  • স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, 
  • প্রবাস গাইড, 
  • অনলাইন ইনকাম, 
  • সার্ভিস ও  
  • কৃষি বিষয়ক ইত্যাদি।
২। কিওয়ার্ড নির্বাচনঃ 
আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলও -কিওয়ার্ড নির্বাচন। কিওয়ার্ড সঠিকভাবে নির্বাচন করতে না পারলে গুগলে র‍্যাংক করানো সম্ভব হবে না। কারণ আপনি যে বিষয়ে লিখছেন সে বিষয়ে পাঠক গুগলে সার্চ নাও করতে পারে। অর্থাৎ সে বিষয়ের সার্চ ভলিউম কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলসের মাধ্যমে চেক করে নিতে হবে। কয়েকটি সাজেসটেড কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলস হলো-  
  • ubersugest,
  • Google keyword planner,
  • keyword tool.io;
  • keyword generator,
  • A-herefs
৩। টাইটেল বা শিরোনামঃ 
আর্টিকেলের বিষয়বস্তুটা আসলে কী তা যেন আর্টিকেলের টাইটেল বা শিরোনাম দেখেই জানা যায়। এক্ষেত্রে লিস্ট বেইজ শব্দ যেমন-কী, কিভাবে, যেভাবে ইত্যাদি যোগ করা যেতে পারে। আর্টিকেলে্র টাইটেলের শব্দ অবশ্যই যেন ৫-১০ হয়। প্রধান কিওয়ার্ড টাইটেলের মধ্যে জরুরী। আর্টিকেলের মধ্যে এই কারেক্টের গুলো ব্যতিত - ।, এই গুলো -*, #, % যেন না থাকে।

৪। ফোকাস কিওয়ার্ড নির্ধারণঃ  
আর্টিকেল লিখার সময় আর্টিকেলের ফোকাস কিওয়ার্ড নির্ধারণ করতে হবে। ফোকাস কিওয়ার্ড কে টাইটেল নামেও অভিহিত করা হয়। একটি পোস্টের মধ্যে ফোকাস কিওয়ার্ডটি ৮ বারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।

৫। ভূমিকা বাটন ব্যবহারঃ 
একটা ভূমিকা বাঁটনই পাঠককে অন্য একটি আর্টিকেল পড়তে আকৃষ্ট করে। ভুমিকা বাঁটনে রিলেটেড আর্টিকেলের লিংক দিতে হবে এবং ভুমিকা বাঁটনে শব্দের সংখ্যা অবশ্যই ৫-৬ শব্দের হতে হবে।

৬। ভূমিকাঃ
আর্টিকেলে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা ভূমিকার মধ্যে উল্লেখ থাকতে হবে। ভূমিকার ৪-৫ লাইন লিখার পর একটি ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে এবং ভূমিকার শেষে আরও ২-৩ লাইন ভূমিকা লিখতে হবে। ভূমিকা এমনভাবে লিখতে হবে যাতে পুরো আর্টিকেলের বিষয়বস্তু স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।

৭। ফিচার ইমেজের ব্যবহারঃ 
একটি সঠিক ফিচার ইমেজ আর্টিকেলকে আরও অর্থবহ করে তোলে। পাঠকরা শুধু সারিসারি আর্টিকেল পড়তে ভালোবাসে না বরং তারা চায় লেখক যাতে প্রাসঙ্গিক ফিচার ইমেজ ব্যবহার করে। আপনি একটি আদর্শ আর্টিকেলের মধ্যে সর্বচ্চ ১-২টি ফিচার ইমেজ বসাতে পারেন। আপনাকে কপিরাইট যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  কপিরাইট মুক্ত একটি ফিচার ইমেজ নিচে উল্লেখ করা হলো-
          
বাংলা-আর্টিকেল-লিখে-আয়-করার-সহজ-উপায়

ইমেজটি দেখে হয়তো আপনি জেনে গেছেন কীভাবে একটি কপিরাইট ইমেজ যুক্ত করতে হবে। 

৮। পোস্ট সূচিপত্রঃ
একটি মানসম্মত আর্টিকেলের মধ্যে অবশ্যই পোস্ট সূচিপত্রের উল্লেখ থাকতে হবে। পোস্ট সূচিপত্র দেখে পাঠক সহজেই ঐ পোস্টের মধ্যে কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে পারে এবং আর্টিকেলটি পড়ার ব্যাপারে পাঠকের আগ্রহ বেড়ে যায়। হেডিং, সাব-হেডিং, ফোকাস কিওয়ার্ড সবই পোস্ট সূচিপত্রের মধ্যে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে নিয়মটি ফলো করতে হবে তা হলো- 
    •  হেডিং, সাব-হেডিং, ফোকাস কিওয়ার্ড পোস্ট সূচিপত্রের মধ্যে আনতে হবে;
    • হেডিং, সাব-হেডিং, ফোকাস কিওয়ার্ড গুলোকে নাম্বার লিস্টিং করা;
    • নাম্বার লিস্টিং এর জন্য কীবোর্ড শর্টকাট হলো- নাম্বার লিস্টিং এর জন্য কীবোর্ড থেকে ট্যাব বাটন প্রেস করতে হবে।  
    • কীবোর্ড থেকে শিফট প্লাস ট্যাব বাটন প্রেসের মাধ্যমে নতুন নাম্বার লিস্টিং করা যায়। 
৯। লাইন গ্যাফ বা প্যারাগ্রাফঃ 
আর্টিকেল লিখার সময় লাইন গ্যাফ দিয়ে লিখতে হবে। এক লাইন থেকে আরেক লাইনের দূরত্ব ১-১.৫ লাইন স্পেস দিয়ে লিখাই ভালো। আর্টিকেল অনেক বড় হলে তা ছোট ছোট প্যারা করে লিখলে তা পাঠকের কাছে অনেক সৃজনশীল হয়। তবে দুই প্যারাগ্র্যাফ-এর মাঝে এক লাইনের বেশি দূরত্ব রাখা ঠিক হবে না।

১০। বুলেটিং ও নাম্বারিংঃ 
বুলেটিং ও নাম্বারিং করে আর্টিকেল লিখার ফলে আর্টিকেল বা কনটেন্ট পাঠকের কাছে আরও সৃজনশীল ও সৌন্দর্য মণ্ডিত হয়ে উঠে। যার ফলে পাঠকের কাছে সহজেই বোধগম্য হয়ে উঠে। সুতরাং আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখার সময় অবশ্যই বুলেটিং ও নাম্বারিং ব্যবহার করতে হবে।

১১। আরও পড়ুন সেকশন ব্যবহারঃ 
একটি আদর্শ মানের আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখতে হলে, প্রতি ২ টি হেডিং পর পর আরও পড়ুন সেকশন ব্যবহার করতে হবে। যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখছেন, সে বিষয় সম্পর্কিত অন্য পোস্টের লিংক আরও পড়ুন সেকশনে যুক্ত করতে হবে যাতে পাঠক বেশি সময় ধরে আপনার ওয়েবসাইটে অবস্থান করে। যত বেশি পাঠক বা ট্র্যাফিক আপনার ওয়েবসাইটে অবস্থান করবে তত বেশি আপনার ইনকাম হবে। 

১২। আর্টিকেল ফরম্যাটিংঃ
আর্টিকেল ফরম্যাটিং বলতে আর্টিকেল টিকে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখাকে বোঝান হচ্ছে অর্থাৎ কোথায় লিখাকে বোল্ড করতে হবে, কোথায় বুলেটিং ও নাম্বারিং ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি। আর্টিকেলের পুরা টেক্সট টাই জাস্টই ফাই মোড করতে হবে।

১৩। কপিরাইট এড়িয়ে চলাঃ 
আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়, তা হলো- অন্যের লিখা বা ইমেজ যাতে কপি না হয়। আপনি যদি কপিরাইট খান তাহলে আপনি বিতর্কিত হবেন এবং আপনার ওয়েবসাইট হুমকির মুখে পড়বে। এক্ষেত্রে সর্বোত্তম পরামর্শ হলো- আর্টিকেল সবসময় নিজের মত করে লিখতে হবে। ইমেজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে হয়তো ইতিমধ্যে জেনে গেছেন কীভাবে আপনি কপিরাইট মুক্ত ইমেজ ব্যবহার করবেন।

১৪। স্ক্রিন শট নেওয়ার টেকনিকঃ 
ব্লগ ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখার সময় স্ক্রিন শট নেওয়ার দরকার হয়। স্ক্রিন শট নেওয়ার সময় মনে রাখতে হবে যে যতটুকু স্ক্রিন শট নেওয়া দরকার ততটুকু স্ক্রিন শট নিতে হবে। সঠিক ভাবে স্ক্রিন শট নেওয়ার একটি নমুনা ছবি নিচে সংযুক্ত করা হলো-।

বাংলা-আর্টিকেল-লিখে-আয়-করার-সহজ-উপায়

১৪। ইমেজ সোর্স লিংক এর মাধমে ছবি যুক্তঃ 
ডাউনলোড না করে ইমেজ সোর্স লিংক ব্যবহার করে ইমেজ যুক্ত করা যাবে না। এতে করে কপিরাইটের আওতায় পড়ে যাবে। কারণ মূল ওয়েবসাইটের মালিক যদি ইমেজটি মুছে ফেলে তাহলে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইমেজটি মুছে যাবে। আপনি হয়তবা ইতোমধ্যে জেনে গেছেন যে কীভাবে কপিরাইট মুক্ত ইমেজ যুক্ত করা যায়। এর পরও একটি নমুনা চিত্রের মাধ্যমে নিচে দেখানো হলো-।

বাংলা-আর্টিকেল-লিখে-আয়-করার-সহজ-উপায়

১৫। ক্রিয়েটিভ কমনসে ছবি যুক্তঃ 
আপনি ইমেজ যুক্ত করার সময় যদি সরাসরি ইমেজ ডাউনলোড করেন তাহলে কপিরাইটে পড়ে যাবেন। তাই আপনাকে তাই আপনাকে নিম্নলিখিত ধাপ অনুযায়ী ছবি যুক্ত করতে হবে। নিচে স্কিন শর্ট ও ফরমুলা দেওয়া হয়- 
  • আপনি  Google.com যান 
  • যে ইমেজ আপনি খোঁজছেন তা লিখে সার্চ করুণ
  • Tools যান
  • Usage Rights এ ক্লিক করুণ
  • Creative Commons Licences ক্লিক করুণ 
  • ইমেজ সিলেক্ট করুণ
  • ইমেজ ডাউনলোড করুণ এবং 
  • সেভ করুণ
বাংলা-আর্টিকেল-লিখে-আয়-করার-সহজ-উপায়

১৬। মেটা ডিসক্রিপশনঃ
মেটা ডিসক্রিপশনে অবশ্যই ফোকাস কিওয়ার্ড হিসেবে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কিওয়ার্ড থাকতে হবে। সেকেন্ডারি কিওয়ার্ড অন্তত পক্ষে ২ বার রাখা যেতে পারে।

১৭। উপসংহার যোগঃ 
আপনি যদি আর্টিকেলের পুরা বিষয় বস্তুটা এক নজরে যাতে সহজেই বোধগম্য করতে চান, তাহলে একটি উপসংহার যুক্ত করুন। পাঠক যাতে আর্টিকেলের প্রধান প্রধান বিষয় গুলো বুঝতে পারে সেদিক বিবেচনা করে একটি উপসংহার যুক্ত করুণ।

আর্টিকেল লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করার           উপায়ঃ  

আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে প্রায়ই সব ধরনের কাজ অনলাইনভিত্তিক। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের চিন্তা চেতনার পরিলক্ষিত পরিবর্তন ঘটেছে। মানুষ আরও অধিক কর্ম ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। দিন দিন তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নতির সাধনের ফলে মানুষ আরও ইন্টারনেট বা অনলাইন নির্ভর হচ্ছে। অর্থাৎ ঘরে বসে অফিস-আদালতের কাজ, ব্যবসায়ী কাজ, রিমোট জব, দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ইত্যাদি করছে। 


মানুষ ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে যে সব কাজ করে টাকা আয় করছে তন্মধ্যে আর্টিকেল বা কনটেন্ট রাইটিং অন্যতম। এছাড়া পার্ট টাইম জব বা রিমোট জব হিসেবে আপনি আর্টিকেল বা কনটেন্ট রাইটিং করে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করতে পারেন। আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে আয় করার সহজ উপায় গুলো নিচে দেওয়া হলো।

১। ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরির মাধমেঃ 

বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার জন্য ব্লগ বা ওয়েবসাইটই সর্বোত্তম মাধ্যম। ডিজিটাল মার্কেটিং এ ফ্রিলান্সার রা তাদের অনলাইন আয়ের অধিকাংশই ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে, বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট লিখে টাকা আয় করে থাকে।

আপনিও শুধু আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করতে পারেন সহজেই। এছাড়া পাস ইনকামের একটা বড় অংশ আসে ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে। তাই আপনিও যদি সঠিক ওয়েতে একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করে সঠিকভাবে কাজ করতে বড়ো শুধু আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখে পোস্ট করার মাধ্যমে মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাঁকা আয়ই পারেন, নয়।
    
তাছাড়াও অনেক ওয়েবসাইট বা এজেন্সি আছে তারা আর্টিকেল লিখার জন্য পার্ট টাইম জব বা রিমোট জবের অফার করে থাকে। এসইও বান্ধব আর্টিকেল যদি আপনি লিখতে পারেন, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটা গুগলে রাং করবে, অর্থাৎ যদি কোনো পাঠক বাংলায় আর্টিকেল লিখে আয় করার সহজ উপায় বা নিয়ম লিখে সার্চ দিলে আপনার ওয়েবসাইটটির নাম প্রথম দিকে আসবে। 

যখন পাঠক বা ট্র্যাফিক আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনার আর্টিকেল পড়বে, অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশী সময় অবস্থান করবে, তত বেশী আপনার আয় হবে। এছাড়াও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এর মাধ্যমে ও আয় করা যায়।

  
২। আন্তর্জাতিক ফ্রিলান্সিং প্লাটফর্ম ব্যবহারঃ 

ফাইভার, আপওয়ার্কের মতো আন্তর্জাতিক ফ্রিলান্সিং প্লাটফর্মে আপনার স্কিল উল্লেখ করে আপনি আপনার প্রোফাইল সাজান। দেশি-বিদেশি ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ যেমন : - ফেসবুক, ইউটিউব, লিংকডিং, টুইটার প্রভৃতি প্লাটফর্মে যুক্ত হন। প্রতি ১৫০০/২০০০/২৫০০ শব্দ চুক্তিভিত্তিক আর্টিকেলের শব্দ সংখ্যার উপর ভিত্তি করে লিখার গুণগতমান চেক করে অর্থ প্রদান করে।

৩। ব্লগ প্লাটফর্মের মাধ্যমেঃ 

কিছু জনপ্রিয় বাংলা পোর্টাল রয়েছে যেখানে আপনি আর্টিকেল লিখে অনেক অর্থ আয় করতে পারেন। মিডিয়াম পার্টনার প্রোগ্রাম এর মাধমে নিজস্ব ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম মিডিয়ামে আপনি বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন।

৪। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধমেঃ 

বিভিন্ন ধরণের সোশ্যাল মিডিয়া যেমন - ফেসবুকে আপনি এক বা একাধিক পেজ তৈরি করে যেখানে নিয়মিত ছোট / বড় আর্টিকেল বা পোস্ট লিখে পাবলিশ করতে পারেন। যখন আপনার পেজটি জনপ্রিয় হবে তখন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্পন্সর বড় পোস্ট অথবা প্রোডাক্ট রিভিউ লিখে আয় করতে পারেন। 

বড় বড় নিউজ পোর্টাল বা জনপ্রিয় ব্লগ ওয়েবসাইটে গেস্ট পোস্ট হিসেবে আর্টিকেল লিখে আপনি মাসে ১৫০০০-২০০০০ টাকা গেস্ট পোস্টিং এর মাধমে আয় করতে পারেন। এছাড়া এগুলো সাইটে সরাসরি লিখার অপশন যেমন -"রাইট ফর আস" অপশন থাকে।

আর্টিকেল কোথায় লিখতে হবেঃ

অনলাইন নিউজপোর্টাল, পত্রিকা,ম্যাগাজিন, নিজ ওয়েবসাইট এবং বাণিজ্যিক ব্লগ প্ল্যাটফর্মে আপনি আর্টিকেল লিখতে পারেন। তবে বিগিনার হিসেবে আপনি যেকোন একটি প্রফেশনাল আর্টিকেল লিখার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে আর্টিকেল লিখা শুরু করতে পারেন। আপনি ঘরে বসে আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন এমন একটি কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হল-ordinaryit.com, Fr Wing, Techtune.io।

আপনি চাইলে-ordinaryit.com এর ০৭ দিনের একটি আর্টিকেল রাইটিং কোর্স করে তাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া আপনি প্লে-স্টোর হতে Fr Wing এপ্স ইন্সটল করে নিতে পারেন। বিগিনারদের জন্য আর্টিকেল লিখে অনলাইনে আয় করার একটি সহজ মাধ্যম। এছাড়াও আরও বাণিজ্যিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আর্টিকেল লিখার প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, তাদের সাথে যুক্ত হয়ে আপনি আর্টিকেল লিখে জমা দেওয়ার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। 

আর্টিকেল লিখে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াঃ

আর্টিকেল লিখে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া একেকটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একেক রকম হয়ে থাকে। আপনি যদি গেস্ট পেইদ হিসেবে আর্টিকেল লিখেন তবে আপনাকে তাদের নিয়মমাফিক আর্টিকেল জমা দিতে হবে। অনলাইন মার্কেটে অনেক ওয়েবসাইট মালিক থাকে যারা আর্টিকেল রাইটার এর জন্য নিয়োগ দিয়ে থাকে। 

এখানে একেক ওয়েবসাইট মালিক একেক নিয়মে তাদের কাজ গুলো জমা নিয়ে থাকে। তাই এর কোন সঠিক নিয়ম নাই তবে আপনি যে আর্টিকেল লিখে জমা দিবেন তা আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারবেন না। তারা আপনার আর্টিকেলর শব্দ বা গুনাগুন বিচার বিশ্লেষণ করে আপনাকে আপনার টাকা পেমেন্ট করে থাকে। 

আয়ের সঠিক হিসাবঃ

আপনি যদি দিনে কমপক্ষে ২ টি করে আর্টিকেল লিখেন তাহলে মাসে আর্টিকেল দাড়ায় ৬০ টি। আর্টিকেল যদি কমপক্ষে ৬০০-১৫০০ শব্দের এবং ভালোমানের হয় তাহলে তারা আপনাকে একেকটি আর্টিকেল এর জন্য ২৫০-৫০০ /- টাকা প্রদান করবে। তাহলে হিসাব টা দাঁড়াল- 
  • আর্টিকেল= ২*৩০=৬০ টি
  • ১ টি আর্টিকেল= ২৫০/৫০০ টাকা
  • ৬০ টি আর্টিকেল=৬০*২৫০/৫০০=১৫০০০/৩০০০০ টাকা 
অতএব, আপনি যদি SEO ফ্রেন্ডলি ৬০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে একটি সুন্দর ও ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই ঘরে বসে বাংলা আর্টিকেল লিখে মাসে কমপক্ষে ১৫০০০-২০০০০ টাকা আয় করতে পারেন। 

উপসংহারঃ 

পরিশেষে আমরা আর্টিকেলটি পড়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলাম যে, কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করা যায়। তবে আপনাকে আর্টিকেল লিখার সময় অবশ্যই কপিরাইট বা এ আই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, না হলে তারা আপনাকে এবং আপনার লিখাকে ব্যান করে দিবে। তাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। 
 
আপনি যদি সৃজনশীল মনের অধিকারী হয়ে থাকেন; আপনার যদি লিখালেখি করতে ভালো লাগে; আপনি যদি মুক্ত চিন্তার অধিকারী হন; ধৈর্যশীলতা যদি আপনার গুণাবলী হয়ে থাকে তাহলে আর দেরি না করে এখনই শুরু করুন-আর্টিকেল লিখা, আর আয় করতে থাকুন- মাসে অন্তত ১৫০০০-২০০০০ টাকা। 

আশা রাখি আপনি এই পোস্টটি পুরাপুরি পড়ার মাধ্যমে উপকৃত হবেন। আর ইতিমধ্যেই আপনি কিন্তু আর্টিকেল লিখে আয় করার উপায়টি জেনে গেছেন। তাই আসুন, শুরু করুণ; আর্টিকেল লিখা এবং আয় করতে থাকুন। হ্যাঁ, আর এই পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। এ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। 
 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম এস আফজাল এজেন্সির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url