অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম
আয়কর রিটার্ন কি, উদ্দেশ্য, কাদের দাখিল করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও
নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিন।
রাজস্ব বোর্ডের নিজস্ব নিয়মানুযায়ী দেশের সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী, বিভিন্ন
শ্রেণির পেশাজীবী এবং সুনির্দিষ্ট এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব,
করের হিসাব ও সম্পদের সঠিক হিসাব রাখার লক্ষ্যে ১২ ডিজিটের একটি TIN বা কর
শনাক্তকরণ নম্বর NBR প্রদান করে থাকে।
দেশে TIN বা কর শনাক্তকরণ নম্বর ধারি ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ। TIN
নম্বর ধারি ব্যক্তিদের করযোগ্য আয় আছে বলে মনে করে রাজস্ব বোর্ড। তাই TIN নম্বর
ধারি ব্যক্তিদের "আয়কর রিটার্ন দাখিল" করা বাধ্যতামূলক।
পোস্ট সূচিপত্র ঃ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম
- অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল
- আয়কর রিটার্ন কি?
- আয়কর রিটার্নের উদ্দেশ্য
- কাদের "আয়কর রিটার্ন দাখিল" করতে হবে?
- "আয়কর রিটার্ন দাখিলের" নিয়মাবলি
- সময়মত "আয়কর রিটার্ন দাখিল"
- সময়মত আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে
- সময়মত আয়কর রিটার্ন না দাখিলের অসুবিধা
- প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি বা কাগজপত্র
- সংক্ষিপ্ত প্রশ্নত্তর পর্ব
- উপসংহার
আরও পড়ুনঃ ছাদ ব্যবহার করে মাসিক আয়ের কার্যকর উপায়
আয়কর রিটার্ন কি?
"আয়কর রিটার্ন" হলো সেই বিবরণী যা বছরান্তে একজন করদাতার নিজের আয়, ব্যয়, সম্পদ
এবং দায়ের যা একটি সুনির্দিষ্ট ফরমে লিখিত আকারে সরকারের রাজস্ব বোর্ডের কাছে জমা
দেওয়া হয়।
আপনার নিজ নামের বায় মেট্রিক সিম এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে
পোর্টালে সাইন ইন করার মাধ্যমে সম্পদ-দায়, আয়-ব্যয় ও বিনিয়োগের তথ্য পূরণ
সাপেক্ষে ঘরে বসে সহজেই "আয়কর রিটার্ন দাখিল" ও ট্যাক্স জমা দিতে পারেন। এর জন্য
আপনাকে অবশ্যই এন বি আর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট "e-Return Portal"-এ রেজিস্ট্রেশন
করতে হবে।
আয়কর রিটার্নের উদ্দেশ্য
আয়কর রিটার্নের মূল উদ্দেশ্য গুলো নিম্নরূপঃ
- আয়ের হিসাবঃ- আপনি পূর্ববর্তী অর্থ বছরে কত টাকা আয় করেছেন তা সরকারকে অবগত করা।
- সম্পদের হিসাবঃ- আপনার কত টাকার মোট সম্পদ আছে তার সঠিক ও স্বচ্ছ হিসাব বিবরণী সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
- করের হিসাবঃ- আপনার আয় অনুসারে সে শের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কত টাকা ট্যাক্স হবে তা নির্ধারণ করা।
কাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে?
নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে-
- আপনার যদি নির্ধারিত আয়ের সীমা অতিক্রম করে এবং আপনার যদি ১৮ ডিজিটের TIN নম্বর বা আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকে, তাহলে আপনাকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে;
- আপনি যদি গাড়ি বা বাড়ির মালিক হোন,
- আপনি যদি বড়ো কোনো ব্যাবসার সাথে জড়িত হোন,
- আপনি যদি সরকারি বা বেসরকারি চাকুরিজীবী হোন এবং আপনার যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন থাকে,
- আপনার বার্ষিক আয় যদি ৩ লক্ষ টাকার বেশি হলে
- আপনি যদি তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি হোন এবং আপনার যদি বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হয়,
- মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।
- আপনি যদি কোনো কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার, ডিরেক্টর হলে আপনাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং
- আপনির করযোগ্য আয় নেই কিন্তু কর শনাক্তকরণ নম্বর আছে, তাহলে আপনাকে NBR এর নিয়মানুযায়ী জিরো রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ বাংলা আর্টিকেল লিখে আয় করার সহজ উপায়
আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়মাবলি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট "e-Return Portal"এ রেজিস্ট্রেশনের
মাধ্যমে আপনি আপনার "আয়কর রিটার্ন দাখিল" করতে পারেন। যাদের উপর আয়কর রিটার্ন
দাখিল নির্ধারিত হয়েছে তারা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গুলো অনুসরণের মাধ্যমে আয়কর
রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। নিয়ম গুলো নিম্নরূপ
১। সাইন আপ বা রেজিস্ট্রেশন ঃ
- আপনি প্রথমে রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট "e-Return Portal"-এ যান।
- রেজিস্ট্রেশন বাটন চাপুন।
- কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টি আই এন নম্বর ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুণ।
- আপনার মোবাইলে OTP কোড আসলে একাউন্ত ভেরিফিকেশন করুণ এবং সেটি দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করুণ।
২। প্রোফাইল আপডেট এবং লগইন করুণ ঃ
আপনি আপনার কর শনাক্তকরণ নম্বর ও পাসওয়ার্ড-এর মাধ্যমে সাইন ইন করুণ। সাইন ইন
করার পর আপনি আপনার প্রোফাইল অপশনে যান এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য যেমন : -
আপনার আয়ের উৎস, চাকুরির ধরন, অ ব্যাবসার ধরন উল্লেখপূর্বক তথ্য আপডেট করুণ।
৩। রিটার্নের ধরনঃ
- আপনি লগইন করার পর ফাইল নিউ রিটার্ন বাঁটনটি চাপুন এবং আপনি যেই অর্থবছরের জন্য রিটার্ন দাখিল করতে চাচ্ছেন, সেই অর্থবছর নির্বাচন করুণ।
- আপনি কোন ধরনের রিটার্নের আওতায় পড়ছেন অর্থাৎ আপনি সাধারণ ব্যক্তি, করদাতা, ব্যবসায়ী, না বেতনভুক্ত তা নির্বাচন করুণ।
৪। ব্যক্তিগত তথ্য ও আয়ব্যয়ের তথ্য আপডেটঃ
- ব্যক্তিগত তথ্য-আপনি আপনার নাম, পেশা, ঠিকানা ও ব্যাংক একাউন্তের তথ্য সঠিকভাবে আপডেট করুণ।
- আয়ের উৎস-আপনার আয়ের উৎস যেমন-ব্যাবসা, বিনিয়োগ, বেতন, ভাড়া প্রভৃতি নির্বাচন করুণ।
- ব্যয়-আপনির জীবনযাত্রার বার্ষিক ব্যয় কত তা সঠিক ছকে পূরণ করুণ।
- সম্পদ-আপনার টোটাল সম্পদের ও দায়ের সঠিক বিবরণী সঠিকভাবে ইনপুট দেন।
৫। বিনিয়োগ রেয়াত ও করঃ
- আপনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ রেয়াত এবং মোট কর দায়ের কত তা সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব বের করে দেবে আপনাকে।
- আপনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিস্টেম যে কর বের করে দেবে তা যাচাই করুণ, যদি অগ্রিম কর বা উৎস কর কেটে রাখে তবে সেটি সমন্বয় করুণ।
৬। কর পরিশোধ ঃ
- আপনার যদি কোনো কর প্রদেয় বাকি থাকে সেক্ষেত্রে আপনি পেমেন্ট অপশনটি চাপুন।
- আপনি বিকাশ, রকেট, নগদ, ডেবিট ও ক্রেডিট এবং অনলাইন ব্যাংকিং এর দ্বারা আপনার আয়কর দিতে পারবেন।
- আপনার আয়কর পেমেন্ট সফল হলে ই-চালান রশিদ সংরক্ষণ করুণ।
৭। ফাইনাল দাখিল এবং রসিদ সংগ্রহঃ
- ফাইনাল আয়কর দাখিলের পূর্বে ভালোভাবে যাচাই করে নিন; যাতে কোনো তথ্য বাদ না পড়ে। এর পর দাখিল করুণ বাটন চাপুন।
- ফাইনাল দাখিল সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে একটি রসিদ জেনারেট হবে, সেটি প্রিন্ট করে সংগ্রহ করুণ এবং হার্ড কপি আয়কর রিটার্নের প্রমাণ স্বরূপ সংরক্ষণ করুণ।
সময়মত "আয়কর রিটার্ন দাখিল"
আপনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন
তাহলে উপ-কর কমিশনার ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৯১ বা ২১২ মোতাবেক আপনার সর্বশেষ
নিরূপিত আয়ের উপর ধার্যকৃত করের ১০% হারে আপনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন, যার
মূল্য কমপক্ষে ১০০০/- হবে।
আপনি পর্যায়ক্রমিকভাবে ব্যর্থ হতে থাকলে আপনাকে প্রতিমাসের জন্য অতিরিক্ত
৫০/- টাকা হারে জরিমানা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ২টি শর্ত পূরণ
সাপেক্ষে জরিমানা প্রদান করতে হবে-
- আপনি প্রথম বার করদাতা ব্যক্তি হলে-৫০০০/- এবং
- আপনার উপর ইতঃপূর্বে কর আরোপিত হয়ে থাকলে, আপনার নিরূপিত আয়ের উপর প্রদেয় করের ৫০% বা ১০০০/- এর মধ্যে যেটি অধিক, সেটি আপনার জরিমানা হিসেবে আপনাকে প্রদান করতে হবে।
সুতরাং আপনি যদি জরিমানা এড়াতে চান তাহলে সময়মতো "আয়কর রিটার্ন দাখিল" করুন।
সময়মত আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে
- আপনি যদি সময়মতো "আয়কর রিটার্ন দাখিল" করতে না পারেন, তাহলে ধারা ১৭৭ অনুযায়ী উপ-কর কমিশনার আপনার নিরূপিত আয়ের ধার্যকৃত করের ১০% হারে ৫০০০/- এবং দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেটি আপনাকে প্রদান করতে হবে।
- আপনি যদি কোন Certificate প্রদান করতে ব্যর্থ হন তাহলে উপ-কর কমিশনার ধারা ১৪৫ অনুযায়ী আপনার উপর ৫০০০/- জরিমানা করতে পারেন, এক্ষেত্রে আপনি ব্যর্থ হলে প্রতি মাসের জন্য আপনাকে ১০০০/- হারে অতিরিক্ত জরিমানা প্রদান করতে হবে।
- আপনি কোনো প্রকার তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে,উপ-কর কমিশনার ধারা ২০০ অনুযায়ী আপনার উপর ৫০০০০/- জরিমানা করতে পারবেন; আর যদি আপনার ব্যর্থতা অব্যাহত থাকে, তাহলে, প্রতিদিনের জন্য আপনাকে আরও ৫০০/- হারে জরিমানা প্রদান করতে হবে।
সময়মত আয়কর রিটার্ন না দাখিলের অসুবিধা
আপনি যদি সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল না করেন, তাহলে যে অসুবিধাগুলো হবে-
- আপনি কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন না।
- আপনি করমুক্ত আয়ের সুবিধা পাবেন না।
- আপনি হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুবিধা পাবেন না।
- বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা পাবেন না।
- আয়কর আইন,২০২৩-এর ১৭৪ ধারা অনুযায়ী আপনাকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
- আয়কর আইন,২০২৩-এর ১৭৪ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত হারে আপনাকে জরিমানা প্রদান করতে হবে।
এছাড়াও আরও যে সকল ধরনের সমস্যায় আপনি পড়তে পারেন-
- আপনার ট্রেড লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
- আপনাকে বকেয়া করের ২৫% বাড়তি জরিমানা প্রদান করা লাগতে পারে,
- আপনাকে প্রতিমাসে ২% সরল সুদ দিতে হবে।
- আপনাকে বকেয়া করের সমপরিমাণ জরিমানা দিতে হবে।
- আয়কর রিটার্ন দাখিলে একটানা ব্যর্থ হলে, প্রতিদিন ৫০/- টাকা করে আপনাকে জরিমানা দিতে হবে।
- আপনি যদি পুরানো করদাতা ব্যক্তি হন তাহলে আপনাকে গত বছরের করের ৫০% বাড়তি দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি বা কাগজ পত্রাদি
নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র বা প্রমাণাদি প্রয়োজন পড়বে আপনার আয়কর রিটার্নের
ক্ষেত্রে। করের ভিন্নতার উপর কাগজপত্রের ভিন্নতা হয়ে থাকে। অনলাইন ও অফলাইনে আয়কর
রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে সকল প্রমাণাদি ও কাগজ পত্রের প্রয়োজন পড়বে তা
নিম্নরূপ।
ক) ব্যক্তিগত ও পরিচিতিমুল্ক প্রমাণাদি ঃ
- কর শনাক্তকরণ নম্বরের কপি।
- আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি
- আপনার ব্যাংক একাউন্তের বিবরণ যেমন-একা উন টের নাম, নম্বর, ও ব্যাংকের শাখার নাম।
খ) আয়ের উৎসের প্রমাণাদি ঃ
- বেতনভোগী হলে- আপনি যে অর্থ বছরের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, সেই অর্থ বছরের আপনার মোট বেতন, বোনাস, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিবরণী আপনার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করুণ। আপনার নিয়োগকর্তা আপনার বেতনের যে কর কেটে রেখেছেন তার প্রত্যায়ন পত্র সংগ্রহ করুণ।
- অন্যান্য আয় হলে- বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত আয় হলে বাড়িভাড়ার চুক্তি পত্র, ভাড়া প্রাপ্তির রসিদ, ভবন মেরামত ব্যয়, ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ইত্যাদির বিবরণী।
- ব্যাবসা বা পেশাগত আয় হলে- আপনার আয় যদি ব্যাবসা বা পেশাগত আয় হয় তবে ব্যালান্স শিট, লাভক্ষতির হিসাবসংক্রান্ত কাগজ পত্রাদি।
গ) রেয়াত ও বিনিয়োগ ঃ
- আপনি কর রেয়াত সুবিধা পান এমন খাত থাকলে তার প্রমাণাদি দিতে হবে
- আপনি যদি শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়গি হলে তার প্রমাণাদি
- ডি পি এস বা সঞ্চয়পত্র থাকলে তার প্রমাণাদি
- আপনার যদি কোনো জীবন বিমা থাকে, তার টাকা জমা দেওয়ার রসিদ
- ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে থাকলে তার রসিদ
ঘ) করসংক্রান্ত প্রমাণাদি ঃ
- আপনি কোনো প্রকার কর কোষাগারে জমা দিলে তার রসিদ
- আপনির যদি কোনো উৎস কর কর্তন করা হয়ে থাকে তার রসিদ বা প্রমাণাদি।
ঙ) সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত তথ্যাদি ঃ
স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ (যথা : গাড়ি, বাড়ি ও স্বর্ণালংকার); আর্থিক বিনিয়োগ (যথা :
সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও নগদ অর্থ) এবং যে-কোনো লোন বা ঋণ থাকলে তার বিবরণ আপনার কাছে
রাখতে হবে, কেন না ফরম পূরণের সময় এই প্রমাণাদির প্রয়োজন পড়ে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব
আসুন, আমরা নিম্নে কয়েকটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে 'অনলাইনে আয়কর
রিটার্ন দাখিলের নিয়ম' সম্পর্কে বিশদভাবে জানার চেষ্টা করি-।
১। ই-রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রথমে কী করতে হবে?
উত্তর ই-রিটার্ন পোর্টালে নিবন্ধন করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল সম্পূর্ণ
করুন।
২। ই-রিটার্ন পোর্টালে নতুন অ্যাকাউন্টস কীভাবে খুলব?
উত্তরঃ টিআইএন, এনআইডি ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করুন।
৩। ই-রিটার্ন-এ লগইন করতে কি কি তথ্য প্রয়োজন?
উত্তরঃ আপনার টিআইএন নম্বর ও নির্ধারিত পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হবে।
৪। নিরাপদ পাসওয়ার্ড তৈরির সঠিক নিয়ম কী?
উত্তরঃ বড়-ছোট অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার
করুন।
৫। পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কীভাবে পুনরুদ্ধার করব?
উত্তরঃ "Forgot Password" অপশন ব্যবহার করে OTP-এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ড সেট
করুন।
৬। ই-রিটার্ন-এ ব্যবহৃত মোবাইল যাচাই করব কীভাবে?
উত্তরঃ নিবন্ধনের সময় OTP সফলভাবে যাচাই হলেই নম্বর নিশ্চিত হবে।
৭। ই-রিটার্ন সংক্রান্ত স্মস্যার সমাধান কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর হেল্প ডেস্ক বা কল সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
৮। স্মার্টফোন দিয়ে কি ই-রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মোবাইল ব্রাওজার ব্যবহার করে সম্পূর্ণই-রিটার্ন দাখিল করা যায়।
৯। অনলাইনে আয় কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ধাপগুলো কী?
উত্তরঃ তথ্য পূরণ, যাচাই, কর পরিশোধ এবং রিটার্ন সাবমিট করুন।
১০। উৎসে কর্তিত করের সুবিধা কীভাবে পাব?
উত্তরঃ উৎসে কর কর্তনের তথ্য সঠিকভাবে রিটার্নে উল্লেখ করলে ক্রেডিট পাওয়া
যাবে।
১১। বেতন থেকে কাটা কর কীভাবে রিটার্নে দেখাব?
উত্তরঃ নিয়োগকর্তার প্রদত্ত কর কর্তনের তথ্য অনুযায়ী রিটার্নে তা উল্লেখ করুন।
১২। সম্মানী, মিটিং বা প্রশিক্ষণ ফি কোন আয়ের খাতে দেখাতে হবে?
উত্তরঃ প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী অন্যান্য উৎসের আয় বা পেশাগত আয়ের খাতে প্রদর্শন
করুন।
১৩। ই-রিটার্নের মাধ্যমে কি অনলাইনে কর পরিশোধ করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে কর পরিশোধ করা
যায়।
১৪। ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রমাণপত্র পাওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সফলভাবে জমা দেওয়ার পর স্বীকৃতিপত্র বা Certified কপি ডাউনলোড
যায়।
১৫। নির্ধারিত সময়ের আগেই কি ই-রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমার মধ্যেই যে-কোনো সময় আগাম জমা
দেওয়া যায়।
উপসংহার
বিশেষ শ্রেণির করদাতা ব্যাতিত অন্য সকল ব্যক্তি করদাতাকে NBR এর অধ্যাদেশ নং
১/২০২৫ এর ১ নং অনুযায়ী NBR এর e-Return পোর্টালের মাধ্যমে "আয়কর রিটার্ন" সাবমিট
করতে হয়। আগামী ৩০শে নভেম্বর ২০২৫-২০২৬ কর বর্ষের রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়
নির্ধারণ করেছে NBR। আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ কর শনাক্তকরণ নম্বর ধারি
লোক আছে, যারা উক্ত সময়ের মধ্যে "আয়কর রিটার্ন দাখিল" করে থাকেন।
আরও পড়ুন ঃ একজন আদর্শ বিক্রয়কর্মীর আত্মকথা
NBR কর্তৃক "আয়কর রিটার্ন" সাবমিটের সময়সীমা কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী ব্যক্তিদের
অবশ্যই অনুসরণ করতে হয়। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি আমাদের কর ব্যবস্থায়
যেমনি অসাধারণ পরিবর্তন এনেছে, তেমনি বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আদায়ের
ক্ষেত্রকেও প্রসারিত করেছে। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য
ধন্যবাদ।

%20(1).webp)
এম এস আফজাল এজেন্সির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url