বাড়ীর ছাদই বাড়তি আয়ের উৎস

বাংলাদেশ বিশ্বের জনবহুল দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিময় যুগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ফসলি জমি বা চাষাবাদ জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মানুষ বিকল্প হিসেবে ফসলি জমি বা চাষাবাদের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বাড়ীর ছাদ বা উঠান-আঙ্গিনা বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা সহ প্রায় সকল জেলা শহর গুলোর বাড়ীর ছাদ বা উঠান-আঙ্গিনা হয়ে উঠছে  একেকটি ফলদ বাগান বা সবজি বাগান।

বাড়ীর ছাদ থেকে আয়ের উৎসঃ

বহিঃবিশ্বের মত আমাদের দেশও বাড়ীর ছাদ ব্যবহার করে অনেক অর্থ উপার্জন করছে। এমনকি বাড়ীর ছাদ ভাড়া দিয়েও অর্থ উপার্জন করা যায়। আমরা বাড়ীর ছাদ থেকে যে সকল উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে পারি, তা নিন্মে দেওয়া হল-

  •  অ্যালোভেরা চাষ
  • ফলদ বাগান বা সবজি চাষ
  •  বাহারি বা ফুলগাছ চাষ
  •  বাণিজ্যিক নার্সারি তৈরি
  •   পোলট্রি, কবুতর, টার্কি পাখি বা কবুতর চাষ
  • মৌমাছি চাষ
  • সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যবহার
  • মোবাইল টাওয়ার ভাড়া
  • বিলবোর্ড ভাড়া
  • রেস্তারা বা ক্যাফে হিসেবে

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী চাষঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। বাসার ছাদে বাণিজ্যিকভাবে স্বল্প পুঁজিতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী চাষ করা যায় । সঠিক পরিচর্চার মাধ্যমে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী চাষবেকারত্বের হার কমানোর পাশাপাশি অধিক অর্থ উপার্জন করা যায়।

অ্যালোভেরা চাষের জন্য বেলে-দোআঁশ মাটি বাছাই করে পরিপক্ব ‘সাকার’ রোপণের জন্য সংগ্রহ করতে হবে। মাটির সাথে কিছু গোবর বা জৈব সার মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সারিসারি করে চারা রোপণ করতে হবে যাতে দুই চারার মাজে ৪০-৫০ সে. মি. দুরত্ব বজায় থাকে। প্রাই ৮-১০ মাস পর থেকে পাতা সংগ্রহ করা যায়। প্রসাধনী, ঔষুধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা যায়। বাড়ীর ছাদে অ্যালোভেরা চাষ করে দেশের অর্থনীতির উন্নতি সাধনে গুরুত্ব পূর্ণ  ভুমিকা রাখা যায়। অধিকিন্তু অ্যালোভেরা চাষের মাধ্যমে মাসে ২০০০০-৩০০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।

ফলদ বাগান বা সবজি চাষঃ

জনসংখ্যার উইতধধ্মুখির জন্য চাষযোগ্য জমি দিন দিন হ্রাস পাওয়ায় দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে দেশের সকল শ্রেণির মানুষের জীবন-যাপন অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা কে সচল করতে বাড়ীর ছাদে ফলদ-বৃক্ষ বা সবজি চাষ অধিক কার্যকর একটি পদক্ষেপ। যার ফলে স্বল্প পুঁজিতে বাড়তি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। বাড়ীর ছাদ ব্যবহার করে ফলদ-বৃক্ষ বা সবজি চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের অর্থনিতিকে সমুন্নত রাখা যায় তেমনি “কৃষিজ অরগানিক ফলের” এবং “কীটনাশকমুক্ত সব্জির” চাহিদা মেঠানোর মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়। সঠিকভাবে বা উপায়ে বাড়ীর ছাদে ফলদ-বৃক্ষ বা সবজি চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে দেশের জনগণ কে বোজা না বানিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা যায়। এছাড়া বাড়ীর ছাদে ফলদ-বৃক্ষ বা সবজি চাষের মাধ্যমে মাসে কমপক্ষে ১৫০০০-২৫০০০ টাকা আয় করা যায়। 

বাহারি বা ফুলগাছ চাষঃ

বাড়ির ছাদে বাহারী ফুলের চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। বাণিজ্যিকভাবে বাড়ির ছাদে বাহারী ফুলের চাষ করে দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা যায়। সেই সাথে দেশের বেকারত্বর হার কমিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। বাড়ির ছাদে বাহারী বা ফুল গাছ চাষ করার জন্য যে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে তা নিন্মরুপঃ

বাড়ির ছাদের আকার বা আয়তন নির্ধারণ করতে হবে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ফুল গাছের জাত নির্বাচন করার পর সে অনুযায়ী টব সংগ্রহ করতে হবে।
ছাদে ফুলের বাগান করার ক্ষেত্রে টব সংগ্রহ করা হলে মাটি সংগ্রহ করতে হবে এক্ষেত্রে দোআঁশ মাটি সংগ্রহই উত্তম হবে। সেই সাথে গোবর সার ও আর্বজনা পঁচা  জৈব সার সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

বাড়ির ছাদ যেন নষ্ট না হয় সেজন্য ওয়াটারপ্রুফ কোটিং দিতে হবে। পাটের বস্তা বা ইট বিছিয়ে টব গুলো রাখতে হবে।

ফুলের গাছ নির্বাচনে খেয়াল রাখতে হবে যেন ভালোমানের ফুলগাছ হয়- যেগুলোর মার্কেট চাহিদা বেশি আছে। যেমন-গোলাপ, গাদা, বেলি, জবা, ডালিয়া এবং বাহারি পাতার জন্য ম্যানিপ্ল্যানট, পাতা বাহার, পাম ইত্যাদি বাছাই করায় ভালো।

মাটি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মাটিতে গোবর, জৈব সার ও বালু মিশিয়ে প্রস্ত্তুত করতে হবে এবং বিশ্বস্ত কোন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন টবের নিচ ফুটা থাকে পানি নিষ্কাশনের জন্য। নিয়মিত সেচ ও সার প্রয়োগ করতে হব। গাছে মাকড়সা বা যেকোন পোকার আক্রমন হলে তা কেটে ফেলতে হবে অথবা নিম পাতার লিকুইড স্প্রে করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম এস আফজাল এজেন্সির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url